“ফারইস্ট লাইফের পুনর্গঠিত পর্ষদের কার্যপরিধি জানতে চায় অর্থ মন্ত্রণালয়”

0
81

“ফারইস্ট লাইফের পুনর্গঠিত পর্ষদের কার্যপরিধি জানতে চায় অর্থ মন্ত্রণালয়”

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির পুরোনো পর্ষদকে অপসারণ করে নতুন ১০ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তবে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ পুনর্গঠনের বিষয়টি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করা হয়নি। ফলে কোম্পানিটির পুনর্গঠিত পর্ষদের কার্যপরিধি নির্ধারণের বিষয়ে বিএসইসি’র কাছে মতামত চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সম্প্রতি বিএসইসি’র চেয়ারম্যানের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের গত ১০ অক্টোবর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পুনর্গঠিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করেছেন এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসি থেকে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্যাহকে চেয়াম্যান করে ১০ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালকের একটি পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

তবে বিএসইসি থেকে ১ সেপ্টেম্বর ৭১৩ নম্বর স্মারক মূলে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ ও নতুন পর্ষদ গঠনের বিষয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অবহিত করা হয়নি।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিনেন্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২সিসি এবং ২০এ অনুসারে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের আইনগত বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ অবস্থায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ করে বিএসইসি থেকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও তাদের কার্যপরিধি নির্ধারণের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রদান করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ২ নভেম্বরের মধ্যে ওই চিঠির জবব দেওয়ার কথা ছিলো বিএসইসি’র। তবে ওই চিঠির জবাব এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (বিমা শাখা) উপসচিব মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইস্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ করে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ এবং তাদের কার্যপরিধি নির্ধারণের বিষয়ে বিএসইসি’র কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। তবে বিএসইসি’র কাছ থেকে এখনও চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। এছাড়া, তাদের কাছে কিছু বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।’

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পুনর্গঠিত পর্ষদের সদস্যরা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্যাহ, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ অ্যান্ড এসোসিয়েটসের সিইও মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল গাজী মো. খালিদ হোসেন,

এসএমএসি ও এসএসএসি’র পার্টনার স্নেহাশিষ বড়ুয়া, একাত্তর মিডিয়ার এমডি অ‌্যান্ড চিফ এডিটর মোজাম্মেল হক, জি৭ সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান সুজাদুর রহমান, জনতা ব্যাংকের ডিএমডি জিকরুল হক এবং নর্দান জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম চৌধুরী।

এদিকে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে নানা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। চারটি সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ এর বিধি ৫৪ অনুযায়ী যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি’র নেতৃত্বে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্যান্য সংস্থার মধ্যে রয়েছে- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here